রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়াজানি ও মুন্সিবাজার এলাকায় অসমের নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে এতে করে নির্ঘুম ও আতঙ্কে পদ্মা পাড়ের মানুষের দিন কাটছে। অসময়ে নদী ভাঙনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।
সংশ্লিষ্ট স্থানীয়রা বলেন, প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ফেলা হলেও ততক্ষণে নদীগর্ভে হারিয়ে যায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমি। এভাবে ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকা মানচিত্র থেকেই মুছে যাচ্ছে দেবগ্রামইউনিয়নটি। ইতিমধ্যেই অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয় অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। নদী পাড়ের বাসিন্দারা বলেন, এখনই নদী ভাঙন রোধ না করলে আমরা যারা এখানে বসবাস করি আমাদেরও চলে যেতে হবে। যেভাবে অসময়ে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে , এদিকে বহু আলোচিত দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদীতীর রক্ষার পরিকল্পনা থাকলেও প্রায় সাত বছরেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ফলে দেবগ্রাম ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের ভাঙন সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সাম্প্রতিক ভাঙনে প্রায় ১০ বিঘা কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ঘর, কবরস্থান, বাজার, ঈদগাহসহ কয়েকশ বসত বাড়ি ঘর। এ সময় ভাঙন দেখতে নদীর তীরে ভিড় করছেন স্থানীয়রা, তবে তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার ছাপ দেখা গেছে। তাদের একটাই দাবি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পদ্মার ভাঙন রোধ করে বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুলহাস সরদারও কুদ্দুস সরদার জানান, আমার বাপের ১শত বিঘা জমি ছিলো। তাহা নদীতে বিলীন হতে হতে এখন মাত্র আমাদের ছয় ভাইয়ের ছয় বিঘা আবাদি জমি আছে। এই এক বিঘা জমি দিয়েই সংসার চলে। ছেলে মেয়ে কে ভরণ পোষণ করে খুবই কষ্ট করছি।বর্তমানে ধান ক্ষেতে ধানের থোর দেখা দিয়েছে এ সময় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে এই ক্ষেত নদীতে গেলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাবো।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খবির সরদার,লোকমান সরদার হবিজল জানান , গত কয়েকদিনে নদী ভাঙ্গনে কাউয়া জানি ও মুন্সিবাজার এলাকার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ ফুট এলাকা জুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় তিন কাঠা ধানের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসলি জমিও হুমকির মুখে রয়েছে যে কোনো সময় নদীগর্ভে চলে যাবে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস সাংবাদিকদের বলেন, “অসময়ের” এই ভাঙনে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পাঠানো হয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি আরো বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে থাকলে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে কাজ করা হবে।


গোয়ালন্দ ( রাজবাড়ী):প্রতিনিধি: 














































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































