নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বামী প্রবাসে, ঘরে দুই ছেলে, ১৫ বছরের ইসমাইল ও ৯ বছরের ইব্রাহিম। এরই মধ্যে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েছেন গৃহবধু সাথী। সম্পর্ক গড়েছেন বাড়ির পাশের এক ভাড়াটিয়ার সাথে। সেই প্রেমের টানে স্বামীর ঘর ছেড়ে পালিয়েছেন পরকিয়া প্রেমিক আরিফের কাছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের বাগহাটি গ্রামে। সাথী আক্তার ওই গ্রামের দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী মাহবুব রহমানের সাবেক স্ত্রী এবং একই উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামের সাহেব আলী দেওয়ানের মেয়ে।
সাথীর শাশুরি মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে ডিভোর্স না দিয়ে দুই সন্তানকে রেখে পালিয়ে গেছে পরকিয়া প্রেমিক আরিফের বাড়িতে। সেখানে যেতে না যেতে জন্ম হয়েছে একটি কন্যা সন্তানের। এমনি অভিযোগ সাথীর স্বামী, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী মাহবুব রহমানের। এ ব্যাপারে গত ২২ মার্চ নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন সাথী আক্তারের শাশুরি মনোয়ারা বেগম। সাধারণ ডায়েরিতে তিনি অভিযোগ করেন, সাথী পালিয়ে যাওয়ার সময় স্বামীর ঘর থেকে নগদ ১৬ লাখ টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। তবে সাথীর পরিবার এবিষয়ে অস্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, সাথীর স্বামী মাহবুব রহমান দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী। সাথী আক্তার থাকতেন শ্বাশুরি, শ্বশুর ও দুই ছেলে নিয়ে দেশে। প্রতিবেশি ভাড়াটিয়া আরিফ কাজ করতেন আরএফএল কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে। আরিফ হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে সম্পর্ক হয় সাথীর। আরিফ শুরুতে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেন ছোট ছেলে ইব্রাহিমের সাথে। ফোনালাপের এক পর্যায়ে গোপনে দেখা করতেন সাথী ও আরিফ। তাদের মধ্যে গড়ে উঠে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক। এসব ঘটনা মাঝে মধ্যেই আঁচ করতে পারতেন শ্বাশুরি মনোয়ারা। কিন্তু বৃদ্ধা শাশুরির কোনো কথাই গ্রহণ করতেন না ছেলের বউ সাথী। এসব নিয়েই ঝগড়া হতো পরিবারে। সম্পর্ক জানাজানি হয়ে গেলে পরকিয়া প্রেমিক আরিফের সাথে পালিয়ে যায় গৃহবধু সাথী আক্তার।
সাথীর স্বামী প্রবাসী মাহবুব রহমান মুঠোফোনে জানান, সাথী আমার পরিবারটাকে ভাসিয়ে গেছে। অবৈধ সম্পর্ক হওয়ার পর থেকে আমার ছেলে দুটোকে শারিরিক ও মানসিক নির্য়াতন করতো। কিছু বলাও যেত না। এমতাবস্থায় ১৫ বছরের ইসমাইলের মানসিক সমস্যায় হয়ে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। ৯ বছরের ইব্রাহিমও অভিভাবকত্ব হারিয়ে উচ্ছন্নে গেছে। বলে কয়েও লেখাপড়া করাতে পারছি না।
মাহবুব রহমান অভিযোগ করেন, সাথী আমার বাবা-মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার করতো না। প্রায়ই ঝগড়া করতো। তাই সাথীর কথা মতো ওর বাবার বাড়িতে ছেলেদের সহ রেখেছি বেশ কয়েক বছর। সেখানে তাদের যাবতীয় খরচ দিয়েছি। সিংগাপুর থাকা অবস্থায় সাথীর একাউন্টে টাকা পাঠাতাম। দক্ষিণ আফ্রিকা থাকা অবস্থায়ও সাথীর একাউন্টে টাকা পাঠিয়েছি। আমার কাছে তার ব্যাংক রশিদ রয়েছে। সাথী আরিফের সাথে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘর থেকে নগদ ১৬ লাখ টাকা ও ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। আমার সাথে তার তালাকও হয়নি। এমনকি তালাকের কোন সংবাদও আমাকে জানানো হয়নি। জানতে পেরেছি, তাদের বিবাহ বহির্ভূত একটি কন্যা সন্তান হয়েছে।
মাহবুব দাবী করেন, সাথীর বাবার বাড়ির পাকা বিল্ডিংটি তার টাকায় গড়া। শ্যালককেও দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়েছে তার টাকায়। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে অনেক টাকা দিয়ে শ্বশুর বাড়ি লোকদের সহায়তা করেছেন।
এবিষয়ে সাথী দ্বিতীয় বিবাহ করেছে জানিয়ে সাথীর বাবা সাহেব আলী দেওয়ান জানান, মাহবুব দক্ষিণ আফ্রিকা থাকাকালীন দীর্ঘ বছর কোন খোঁজ ছিল না। ছোট নাতি ইব্রাহিমের মুখও দেখেনি মাহবুব। টাকা-পয়সা দুরের কথা সাথীর খোঁজ নিতো না। মাহবুব অনেক টাকা ঋণ রয়েছে, দেশে কবে নাগাদ আসবে তারও ঠিক নেই। এদিকে ওর মা স্বাথীর সাথে ঝগড়া-ঝাটি লেগেই রাখতো। তাই বাধ্য হয়ে মাহবুবকে তালাক দিয়েছে সাথী।
সাহেব আলী দেওয়ান জানান, সাথী দ্বিতীয় বিয়ে করেছে আরিফকে। সাথী সন্তান সম্ভবা সত্য তবে মেয়ে সন্তান হয়নি। আমার ছেলেকে দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়েছে সত্য তবে সব টাকা আমি দিয়েছি। আমার বাড়ির বিল্ডিং যখন করেছি মাহবুব তখন ঋণের দায়ে নিখোঁজ। ও কিভাবে আমাদের টাকা দিল। বরং ওর স্ত্রী সন্তানদের আমার বাড়িতে রেখে লালন পালন করেছি। যেটা ওর দায়িত্ব ছিল, সেটাও পালন করেনি।
এঘটনা জানতে আরিফ ও স্বাথীর খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি। সাহেব আলী দেওয়ানের দেয়া আরিফের ব্যবহৃত একটি ফোন নম্বরে যোগাযোগ করেও কথা বলা যায়নি। একমাস অতিবাহিত হলেও আরিফ ও স্বাথীর সাথে কথা বলতে পারেননি প্রতিবেদক।


Reporter Name 














































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































